রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্স্ক অঞ্চলের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রোববার রাতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর ফলে কুর্স্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা হ্রাস করতে হয় এবং উস্ট-লুগা বন্দরের জ্বালানি রফতানি টার্মিনালে আগুন ধরে যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
কুর্স্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রেস সার্ভিস জানায়, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে খুব বেশি দূরে নয় এমন কুর্স্ক পারমাণবিক কেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একটি সহায়ক ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্ল্যান্টের তিন নম্বর ইউনিটের অপারেটিং ক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিতে হয়।
প্ল্যান্টের প্রেস সার্ভিস আরো জানায়, এই হামলায় কেউ আহত হননি এবং আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে এবং আশেপাশের এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়নি।
আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেনিনগ্রাদ প্রদেশের উস্ট-লুগা বন্দরে প্রায় ১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে নোভাটেক পরিচালিত টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। এটি বিশাল বাল্টিক সাগরীয় অঞ্চলের একটি জ্বালানি রফতানি টার্মিনাল এবং প্রক্রিয়াকরণ কমপ্লেক্স।
লেনিনগ্রাদ প্রদেশের গভর্নর আলেকজান্ডার ড্রোজদেঙ্কো টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে বলেন, দমকলকর্মী এবং জরুরি পরিষেবা কর্মীরা বর্তমানে আগুন নেভানোর কাজ করছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি।
নোভাটেকের তথ্য অনুসারে, উস্ট-লুগা কমপ্লেক্সটি ২০১৩ সালে চালু হয়েছিল। এটি গ্যাস কনডেনসেটকে হালকা ও ভারী ন্যাফথা, জেট ফুয়েল, ফুয়েল অয়েল এবং গ্যাসঅয়েলে রূপান্তর করে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পণ্য এবং গ্যাস কনডেনসেট রফতানি করতে সক্ষম হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সেনারা রাতে লেনিনগ্রাদ, সামারাসহ ১৩টি অঞ্চল এবং ক্রিমিয়া উপদ্বীপের ওপর দিয়ে আসা মোট ৯৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোসাভিয়াটসিয়া জানায়, রাতের বেলা লেনিনগ্রাদ প্রদেশের পুলকোভো বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি রুশ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ ছিল।
সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ টেলিগ্রামে জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিজরানের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালিয়েছিল। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই মাসের শুরুতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা সিজরান তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, ঐ হামলার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রোসনেফ্ট শোধনাগারটি উৎপাদন ও অপরিশোধিত তেল গ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল।
এই বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর তাদের হামলাগুলো রাশিয়ার ইউক্রেনে অবিরাম হামলার প্রতিশোধ এবং মস্কোর সামগ্রিক সামরিক প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশে করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স









