পঞ্চপাণ্ডব বিহীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাইশগজে রীতিমত ধুকছে। কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সবশেষ ম্যাচেও হারের তোতা স্বাদ পেয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এমন দুঃসময়ে আশার আলো দেখালেন দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাহিরে থাকা সাকিব আল হাসান।
রাজনৈতিক বিতর্কে এ অলরাউন্ডার দেশে ফিরতে পারছেন না প্রায় বছর গড়িয়ে যাচ্ছে। দেশের জার্সিতে না খেলতে পারলেও বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সাকিব। সেখানে নিজের কারিশমা দেখাতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে ব্যাটে বলে জ্বলে উঠলেন এ অলরাউন্ডার। প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সুপার লিগে খেলতে নেমেই চমক দেখালেন সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার কেশব মহারাজের বদলি হিসেবে নেমে সুযোগটা কাজে লাগালেন প্রথম ম্যাচেই। অভিষেক ম্যাচেই যেন পুরোনো সে বিশ্বসেরা সাকিব রূপে ফিরলেন।
গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) দ্বিতীয় আসরের পর্দা উঠেছে শুক্রবার (১১ জুলাই। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিকের বিপক্ষে দুবাই ক্যাপিটালসকে ২২ রানের জয় এনে দিলেন সাকিব।
টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দুবাই ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছিল ১৬৫ রান। দলের হয়ে এদিন সর্বোচ্চ ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন সাকিব।
অপরদিকে দুবাই ক্যাপিটালসকে ভালো শুরু এনে দেন সেদিকউল্লাহ অটল। দারুণ ব্যাটিংয়ের পর বাঁহাতি এই আফগান ওপেনার বিদায় নেন ২৫ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে। অটলের বিদায়ের পর মিডল অর্ডার ব্যর্থতায় ১০৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দুবাই। তবে, দলের বিপদে হাল ধরেন সাকিব। নিজের ইনিংসের প্রথম বলেই চার মেরেছিলেন তিনি। ইতিবাচক শুরুর পর দারুণ ব্যাটিংও করেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে কেউই যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছিলেন না। ফলে দেখে-শুনে খেলেন বাংলাদেশের এ অলরাউন্ডার।
৩৪ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। সবমিলিয়ে ৩৭ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন বাংলাদেশের সাবেক এ অধিনায়ক।
ব্যাটিংয়ে ঝলক দেখানোর পর বল হাতেও দেখা মিলল সেই চিরচেনা সাকিবের। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে এসেই জোড়া উইকেট শিকার করেন তিনি। ফিরিয়েছেন সেন্ট্রালের ওপেনার উইল ইয়াং এবং ডিন ফক্মক্রপ্টকে। ১১তম ওভারে জশ ক্লার্কসনকে সাজঘরে পাঠান। এরপর নিজের কোটার শেষ ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নেন সাকিব। চার ওভার বল করে মাত্র ১৩ রান খরচ করেছেন। মেইডেন দিয়েছেন একটি। উইকেট শিকার করেছেন চারটি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ সেরার পুরস্কারও গেছে সাকিবের ঝুলিতে।









