শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৭, হেমন্তকাল

বাজেট গতানুগতিক, গণমুখী নয়: জামায়াত

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটকে ‘গতানুগতিক’ ও ‘গণমুখী নয়’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।

রোববার (০২ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অর্থ উপদেষ্টা ২ জুন বিকেলে টেলিভিশনে ভাষণের মাধ্যমে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন। তবে, এটি ‘জুলাই অভ্যুত্থান’–পরবর্তী প্রথম বাজেট হলেও আশানুরূপ কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।পূর্বের বাজেটসমূহের ন্যায় এটি একটি গতানুগতিক বাজেট।

তিনি বলেন, বাজেটটি পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। নতুন বাংলাদেশের কোনো স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি এতে প্রতিফলিত হয়নি। খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও, কোথাও ব্যয় কমে আসেনি। নতুনত্বের ছোঁয়াও অনুপস্থিত।

এটিএম মা’ছুম আরও বলেন, এ বাজেটে বড় অঙ্কের ব্যয় মেটাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরেও এর কাছাকাছি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট বাড়িয়ে ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার একটি বড় অংশ আসবে বৈদেশিক উৎস থেকে। বাজেটে বিদেশ নির্ভরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ কর বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ দেখা গেলেও প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পরোক্ষ কর বৃদ্ধির কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে এর ভার বহন করতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য ভ্যাট ও আমদানি শুল্কখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।  স্থানীয় শিল্পের কর অবকাশ ও ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা সংকুচিত করা হয়েছে। এতে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। পাশাপাশি এসি, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন ও এলইডির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তার খরচ বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে সুতার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করায় আরএমজি সেক্টরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এটিএম মা’ছুম বলেন, এত বড় বাজেটে শিক্ষা সামগ্রীর দাম কমালেও শিক্ষা খাতে মোট বাজেট কমানো হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে উপকরণ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কমানো হয়েছে যা আশাব্যঞ্জক। এছাড়াও কোল্ড স্টোরেজ খরচ কমানোর কারণে কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে।  বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে তা আরো বরাদ্দের দাবি রাখে। এক্ষেত্রে সুচিকিৎসা অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন। মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ করার কথা বলা হলেও বাজেটে এ লক্ষ্য অর্জনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রদান করা হয়নি। যা কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি করেছে।

বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ এবং অন্যান্য অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা বাজেটে লক্ষ্য করা যায়নি। যা জাতিকে হতাশ করবে। এছাড়াও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ অপচেষ্টা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমি আশা করি সরকার কর্তৃক ঘোষিত বাজেটকে গণমুখী করার জন্য আয়কর আরও কমিয়ে এনে জনকল্যাণখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করবেন। ঘোষিত বাজেট পর্যালোচনা করে আমরা এ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য পরে জাতির সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.