বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২, ২ শাবান ১৪৪৭, শীতকাল

‘একপক্ষ সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’

আমরা ভেবেছিলাম ৫ আগস্ট আমাদের এ লড়াই সংগ্রাম শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, একটা পক্ষ সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একটা পক্ষ আবার দেশটাকে বিভাজনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, কোনো বৈদেশিক শক্তির প্রেসক্রিপশনে আমাদের দেশ আর পরিচালিত হবে না। বহিঃশক্তির সঙ্গে, বিদেশের সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, সমতার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক পরিচালিত হবে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।রাজনৈতিক ছোট ছোট মতপার্থক্যকে জাতীয় স্বার্থে দূরে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের দেশটাকে গড়তে হবে।

রোববার (২৫ মে) সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে কেউ লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর অনেকে বিরক্ত। কিন্তু পুলিশকে কারা ব্যবহার করেছে তাদের নিয়ে কেউ কথা বলে না। পুলিশের প্রমোশন নিয়ে কেউ কথা বলে না, পুলিশের যে অমানবিক পরিশ্রম সেটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। পুলিশে সংস্কার নিয়ে কেউ কথা বলে না। আমরা সংস্কার নিয়ে কথা বলছি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়বো, যেখানে পুলিশকে আর কেউ লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

চট্টগ্রামবাসীর কাছে প্রশ্ন রেখে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আপনারা কি এ মুজিববাদী সংবিধান আর সংসদে দেখতে চান? এ সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশ পরিচালনা দেখতে চান? আমরা চাই, এ মুজিববাদী সংবিধান অবিলম্বে বিলোপ করে সংস্কার করে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে এমন সংবিধান কার্যকর করা হোক।

তিনি বলেন, আমরা সাম্যের ও ন্যায্যতার বাংলাদেশ গড়তে চাই। যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ একটা নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে ও নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার সম্পর্ক থাকবে। রাষ্ট্র নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে ও নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আপনারা অবিলম্বে বিচার কার্যক্রম, সংস্কার কার্যক্রম ও নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ জাতির সামনে প্রকাশ করুন। রাষ্ট্রের যে অন্যান্য সংগঠনগুলো রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে আপনারা ভুলে যাবেন না অতীতে এ ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার আপনাদের শুধু ব্যবহার করেছে, আপনাদের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য যারা রয়েছে তারা জনগণের বন্ধু, তারা জনগণের সহযোগী। কিন্তু হাসিনা সরকার রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এনসিপি কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করবে না উল্লেখ করে দলটির এ নেতা বলেন, কোন পুলিশকে এনসিপি নিয়ন্ত্রণ করবে না। কোনো প্রশাসনকে এনসিপি নিয়ন্ত্রণ করবে না। পুলিশ হবে বাংলাদেশপন্থী, প্রশাসন হবে বাংলাদেশপন্থী আর বিচার বিভাগ হবে বাংলাদেশপন্থী, নির্বাচন কমিশন হবে বাংলাদেশপন্থী। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন আমরা আর কোনো দলপন্থী চাই না।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.