ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা হিসেবে ডিসেম্বরকে নির্ধারণ করে কমিশন কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের অন্তত ছয় মাস আগে দুই ডজন বিষয়ভিত্তিক কাজের ফর্দ তৈরি করে রাখতে হবে। সেজন্য রোডম্যাপের আদলে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে খসড়া তৈরির কাজ চলছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সোমবার বলে বলছেন, “ভোটের প্রাথমিক কাজ শেষ করে জুন-জুলাইয়ে ‘কর্মপরিকল্পনা বা অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করা হবে ইনশাহআল্লাহ।”
এ নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্য, ডিসেম্বরে নির্বাচন- এটা ‘আয়নার মত পরিষ্কার’ হয়ে আছে। এখন বিভ্রান্তি দূর করতে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রকাশ করতে হবে।
সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ‘কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ’ অনুষ্ঠান করে তৎকালীন ইসি।
এর আগে একাদশ সংসদ ২০১৮ সালে অক্টোবরের মাঝামাঝি ভোটের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসূচি অনুমোদন করে তৎকালীন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন প্রাক নির্বাচন ও তফসিল পূর্ববর্তী ‘প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা’ এবং তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য ‘কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সূচি’ সংক্রান্ত চেক লিস্ট তৈরি করে কাজের সুবিধার জন্য।
২০০৭-২০০৮ সালে প্রথমবারের মত রোডম্যাপ ঘোষণা করে তৎকালীন ইসি। ২০০৭ সালের ১৫ জুলাই দেড় বছরের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়, যাতে ২০০৮ সালে অক্টোবর-ডিসেম্বরে তফসিল ও ভোটের সময়সূচি ধরা হয়। ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু হয়। আইন-বিধি সংস্কার, দল নিবন্ধনের পর সেই ভোটার তালিকা দিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়।
পরবর্তী সময়ে বিষয়টি রোডম্যাপ বা অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনা বা চেকলিস্ট নামে পরিচিত রয়েছে, যা ইসি এখনও অব্যাহত রাখছে।
গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেয় এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন। আসছে মেতে তাদের ছয় মাস পূর্ণ হবে। এর মধ্যেই ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও শেষ হবে।
আর ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে নিজেদের মেয়াদের ১৩ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের কাজ সারতে হবে এ কমিশনকে।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, এ বছরের ডিসেম্বরেই টার্গেট; সেজন্য জুলাই-অগাস্টের মধ্যে সব প্রস্তুতিমূলক কাজ গুছিয়ে রাখা হবে। মত বিনিময় করা হবে অংশীজনদের সঙ্গে। অক্টোবরের দিকে তফসিল ঘোষণারও পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।








