বগুড়া কারাগারে যাওয়ার ছয় দিনের মাথায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান (রিপু) ‘হার্ট অ্যাটাকে’ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কতৃপক্ষ জানান যে, রাগেবুল আহসান কারাগারে আসার আগে থেকেই হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার দুপুরের পর হার্ট অ্যাটাক করলে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে কারা তত্ত্বাবধানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, রাগেবুল আহসানকে সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন রাগেবুল আহসান।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন বগুড়া–৬ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান।
গত শুক্রবার তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আর্দেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সাতটি হত্যা মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৯ দিনে বগুড়া কারাগারে বন্দী থাকা চারজন আওয়ামী লীগ নেতা ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা যান বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। ৯ ডিসেম্বর কারাগারে বন্দী অবস্থায় ‘হার্ট অ্যাটাক’ করে মারা যান জেলার গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন ওরফে মিঠু (৬৫)। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পুলিশলাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহাদত আলম ওরফে ঝুনু (৫৭) গত ২৬ নভেম্বর কারাবন্দী অবস্থায় ‘হার্ট অ্যাটাকে’ আক্রান্ত হন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ২৫ নভেম্বর মারা যান শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭)। এ ছাড়া ১১ নভেম্বর কারাবন্দী অবস্থায় ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা যান বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ওরফে রতন (৫৮)।














