বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কেননা, এ বছর স্বৈরাচার হটিয়ে নতুন একটি অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন দেশের শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। দেশের সর্বস্তরের জনতার সমর্থনে তারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ছাত্রনেতারা বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। ন্যায্যতা, সমতা এবং আত্মমর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা।
২৪শে ডিসেম্বর ‘দিস স্টুডেন্টস আউস্টেড আ গভর্মেন্ট, নাউ দে আর রি-বিল্ডিং আ ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের প্রথম তলায় নয়া অফিসে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ শিক্ষার্থী। মাত্র কয়েক মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন এই তরুণরা।
হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে কর্তৃত্ববাদ, বর্বরতা এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তার পতনের পর বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে সুযোগ এসেছে তা কাজে লাগাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শিক্ষার্থীরা। প্রক্রিয়াটি যত দীর্ঘ বা যত জটিলই হোক না কেন দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠনে কাজ করে যাবেন তারা। দেশে এমন একটি ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। এ ছাড়া আর কখনই যেন দেশ স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে সে বিষয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ছাত্রনেতারা। ২৬ বছর বয়সী তরুণ ছাত্রনেতা আরিফ সোহেল বলেছেন, আমাদের রাজনৈতিক শক্তি এখন খুবই তরল অবস্থায় আছে। ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর জয়ের আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, আমরা স্থিতিশীল এবং অগ্রগতিশীল একটি দেশ চাই।
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, ৫৩ বছর আগে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্যদিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ কঠিন কাজ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে এ দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। এদের মধ্যে রয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারে সফল ব্যক্তিবর্গ এবং তরুণ ছাত্রনেতারা- যারা প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে ইতিহাস নির্মাণের ভার বহন করছেন।
শেখ হাসিনার আমলে নিপীড়িত একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল চাইছে কোনো রকম সংস্কার ছাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নির্বাচন দেয়া হোক। এ ছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তেল, চালসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় চরম দুর্ভোগে জনগণ। অন্যদিকে ঢাকায় ক্রমাগত বিক্ষোভের ফলে ভোগান্তিতে রয়েছে রাজধানীবাসী। অন্যদিকে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর কথিত হামলার খবরে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি ইসলামের নামে চরমপন্থিদের উত্থানের আশঙ্কাতেও রয়েছে বাংলাদেশ। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে পুরনো ব্যবস্থার উৎখাত হয়েছে- তবে সংস্কারের জন্য সময়ের প্রয়োজন।














