ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপের ইমেরিটাস চেয়ারম্যান রতন টাটা মারা গেছেন। গতকাল বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রতন টাটার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত সোমবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই শিল্পপতি তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাউর হওয়া জল্পনা খারিজ করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বয়সের কারণে তিনি নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রতন টাটার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে টাটা গ্রুপ।
রতন টাটা ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ের পারসিক পরিবারে জন্ম নেন। বাবা নভল টাটার জন্ম গুজরাতের সুরতে। পরে টাটা পরিবার তাকে দত্তক নেয়। রতন টাটার মা সুনি টাটা সরাসরিভাবে জামশেদজি টাটার পরিবারের অংশ। রতন টাটার যখন ১০ বছর বয়স, সেই সময় তার মা-বাবা আলাদা হয়ে যান। রতন টাটার নিজের এক ভাইও রয়েছেন, জিমি টাটা। সৎভাই নোয়েল টাটা। নভল টাটা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন সিমোন টাটাকে। নোয়েল তাদেরই সন্তান।
২০১২ সালে ৭৫ বছর বয়সে টাটা গ্রুপের এগজিকিউটিভ ক্ষমতা ছেড়ে দেন রতন টাটা। ওই জায়গায় পারিবারিক আত্মীয় সাইরাস মিস্ত্রিকে আনা হয়। তবে ২০১৬ সালে সাইরাসকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ফেরেন রতন টাটা। এর পর ২০১৭ সালে নটরাজন চন্দ্রশেখরণকে টাটা সন্সের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজে আরও বেশি করে যুক্ত হন রতন টাটা।
২১ বছর রতন টাটার হাতে টাটা গ্রুপের দায়িত্ব ছিল। এতে গ্রুপের আয় বাড়ে হয় ৪০ গুণ। মুনাফা বাড়ে ৫০ গুণ। মধ্যবিত্তকে স্বল্পদামের গাড়ির স্বপ্ন দেখান রতন টাটাই। পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা গড়ে ওঠে। যদিও রাজনৈতিক টানাপড়েনে পরে গুজরাটে কারখানা সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
২০০০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান পান রতন টাটা। ২০০৮ সালে পান ‘পদ্ম বিভূষণ সম্মান’। মহারাষ্ট্র, আসাম সরকারও তাকে সম্মান প্রদান করে। ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স, আইআইটি বম্বে, ইয়েল ইউনিভার্সিটি, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, রাজা তৃতীয় চার্লসের থেকেও বিশেষভাবে সম্মানিত হন।
রতন টাটা অবিববাহিত ছিলেন। তবে ২০১১ সালে একটি সাক্ষাৎকারে জীবনে প্রেম এসেছিল বলে স্বীকার করে নেন। চার-চারবার বিয়ের পিঁড়িতে বসার উপক্রম হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক পরিণতি পায়নি। তার মৃত্যুতে ভারতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।














