প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধপথে দেশে টাকা পাঠানো বেড়েছে। সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ৫ দিনে এসেছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। শ্রমবাজারে দক্ষ লোক পাঠালে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে বলে আশা করেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা।
ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে দেশে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে প্রবাসী আয় ক্রমাগত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। তাতে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৮ কোটি ২ লাখ ডলার।
ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের সংস্কার শুরু হওয়ায় আস্থা ফিরেছে প্রবাসীদের। সে কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন তারা। সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। তারা রেমিট্যান্স এনেছে ৪০ কোটি ২৭ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ কোটি ২১ লাখ ডলার এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে। তৃতীয় স্থানে আছে ট্রাস্ট ব্যাংক। ২৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে ব্যাংকটির মাধ্যমে। এই সময়ে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৭টি।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ৫ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স এসেছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় আস্থা ফিরেছে প্রবাসীদের।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বলছেন, বৈধ পথে ডলারের ভালো দাম পাওয়ায় হুন্ডি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এটা শুভ লক্ষণ।
প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা লাউঞ্জ করাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ভালো উদ্যোগের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরামর্শ দেন এই অর্থনীবিদ।














