রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২, ৫ শাবান ১৪৪৭, শীতকাল

কবি আসাদ বিন হাফিজ আর নেই

বিখ্যাত কবি, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও ছড়াকার কবি আসাদ বিন হাফিজ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সোমবার (১ জুলাই) যোহরের নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম এবং আসরের নামাজের পর কবির গ্রামের বাড়ি বড়গাঁওয়ে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কবিকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে, রোববার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে কবির ভাতিজা নেচারুদ্দিন মাসুদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৯ তারিখ রাতে খাওয়ার পর তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রোববার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

কবি আসাদ বিন হাফিজ ১৯৫৮ সলের ১ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের বড়গাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। আদর্শের দিক থেকে কবি ফররুখ আহমেদের অনুসারী কবি আসাদ বিন হাফিজ ছোটবেলা থেকেই ইসলামিক সাংস্কৃতিক চর্চায় মন দেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তার সাহিত্যে বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ এবং বিপ্লবের অনুপ্রেরণা প্রকাশ করেছেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সৃজনশীলতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহারেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

শৈশবে কবি আসাদ বিন হাফিজ নিজ গ্রাম বড়গাঁও প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেন এবং বাড়ির পাশের মক্তবে আরবি শেখেন। পরে পার্শ্ববর্তী গ্রাম সাওড়ায় প্রাইমারি ও হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। কবির সবচেয়ে বড় ভাই অধ্যাপক ইউসুফ আলী নরসিংদী কলেজে অধ্যাপনা করতেন। কবি সেখানে গিয়ে ব্রাহ্মনদী কলেজিয়েট হাইস্কুলে ভর্তি হন। পরে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন এবং তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল স্কুলে ভর্তি হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ফরিদাবাদ হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং এখান থেকেই তিনি মানবিক বিভাগে এসএসসি পাশ করেন ১৯৭৪ সালে। ঢাকা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কবি আসাদ বিন হাফিজ কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য, গবেষণা, সম্পাদনাসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাতেই রেখেছেন তাঁর অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৮১। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘কি দেখো দাঁড়িয়ে একা সুহাসিনী ভোর’ এবং ‘অনিবার্য বিপ্লবের ইশতেহার’।

কবি আসাদ বিন হাফিজ তার বর্ণাঢ্য কর্ম ও সাহিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কলম সেনা পুরস্কার (১৯৯৪), কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এমইউ আহমেদ পুরস্কার (১৯৯৭), বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ পুরস্কার (১৯৯৭), ছড়ার ডাক পদক ও সম্মাননা (২০০৪), মেলোডি শিল্প গোষ্ঠী পদক (২০০৪), কিশোর কণ্ঠ ও সাহিত্য পুরস্কার (২০০৪), গাজীপুর সংস্কৃতি পরিষদ কৃতি সংবর্ধনাসহ (২০০৪) অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ বিভাগের আরও খবর

ফটোগ্যালারী

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১ 
কলিকাল | সত্য-সংবাদ-সুসাংবাদিকতা
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.