আমার ভাইকে নিয়ে স্বপ্ন ছিলো। সে আমাদের পরিবারের মধ্যে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। অভাবের সংসারে আমি পড়ালেখা করতে পারিনি কোনমতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। আমি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে ভাইকে সহায়তা করতাম। পরিবারের সবার স্বপ্ন ছিলো সাঈদকে নিয়ে, সব স্বপ্ন ভেঙে গেলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর পার্কের মোড়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সড়কে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন আবু সাঈদ। তার নিহতের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
আবু সাঈদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলায় অভাবের সংসারের কোনমতে খেয়ে না খেয়ে বড় হয়েছেন আবু সাঈদ। অভাবের তাড়নায় অনেক সময় বাড়িতে থাকা ভ্যান চালিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ যোগাতেন তিনি। আবু সাঈদ খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে একই ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন তিনি।
আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিজ বাড়ির সামনে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র মেধাবী ছেলেকে হারিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি করে কাঁদছেন তার মা মনোয়ারা বেগম। অন্যদিকে মাটির ঘরের দেয়াল ধরে কাঁদছেন তার ছোট বোন সুমি আক্তার। তার হৃদয়বিদারক কান্নায় যেন মাটির দেয়াল ভিজে যাচ্ছে।
আবু সাঈদের বোন সুমি বলেন, আমার ভাই এভাবে রেখে যাবে সেটা কখনো ভাবিনি। ভাই আমাকে ছেড়ে গেছে মেনে নিতে পারছি না।ভাইয়ের আত্মা কি বলছে আমাকে কেন ছেড়ে গেল আমার ভাই। আমার ভাইকে আমি ভুলতে পারছি না। আমার ভাই রোকেয়া ভার্সিটিতে ইংরেজি নিয়ে অর্নাস করত। ভাইকে আমি বলছিলাম ভাই বিসিএস কিভাবে করে । আমার ভাই বলছিলো তোমার আশাটা পূরণ করতে আমি চেষ্টা করব। আমার ভাই আমার আশা পূরণ না করে কোথায় গেলো। আল্লাহ আমার ভাইকে কোথায় পাব।







