নির্বাচনের আগে ২৪ জুন ডেইলি সানের ইলেকশন শো-ডাউন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। সে সময় একজন অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে তার অবস্থান জানতে চান। স্টারমার অবৈধ অভিবাসী প্রসঙ্গে জবাবের একপর্যায়ে বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে এদেশে এসেছেন, তাদের ফেরত পাঠানো হতে পারে। কয়েকটি দেশের মানুষের এখানে আসা বন্ধ করতে পারি আমরা।’
স্টারমারের মন্তব্যের পর থেকেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয় ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। নিজ দলের সদস্যদেরও তোপের মুখে পড়েছেন লেবার পার্টির এই নেতা। বিপাকে পড়েছেন লেবার পার্টির মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরাও। দলীয় নেতার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টির টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি লিডার ও কাউন্সিলর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা আখতার লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন।
যুক্তরাজ্যের আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশি যে ৩৪ জন লড়ছেন তাদের মধ্যে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন আটজন। দলটির বর্তমান এমপি রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রুপা হক ও আপসানা বেগম। ব্রিটেনের গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, স্টারমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কেউ কেউ আবার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত যেসব এলাকায় বর্তমানে লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রয়েছেন, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কিয়ার স্টারমারের বক্তব্য তুলে ধরে নিজেদের পক্ষে ভোটার টানার চেষ্টা করছেন।
লেবার পার্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের দলের সঙ্গে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। স্টারমার নিজেও কয়েকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেন স্টারমার। ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে রিপোর্ট করেছে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। ওই সাক্ষাৎকারে স্টারমার জানান, ‘এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এমন কিছু বলা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে আঘাত করে বক্তব্য দেইনি’। তিনি আরও বলেন, ‘লেবার পার্টি ও বাংলাদেশিদের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অনেক সুদৃঢ়। এখানকার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।’
টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, নিজ দলের প্রতিনিধি ও নেতাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরই ক্ষমা ও ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন স্টারমার। যেখানে তিনি ব্রিটেনের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অবদানের কথা স্বীকার করেন এবং এই অবদানের জন্য দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ














