‘চা ছাড়া আমার চলেই না!’
এমন আপ্তবাক্য আমাদের সবার জন্যই কমন হয়ে গেছে প্রাত্যহিক জীবনে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সকাল শুরু করতে না পারলে দিনটাই মাটি হয়ে যায় অনেকেরই। সারা বিশ্বে চা প্রেমী মানুষের সংখ্যা অগণিত। আড্ডা হোক বা গান, সঙ্গী হিসেবে এক কাপ চায়ের জুড়ি মেলা ভার। এক কাপ চা হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়। এজন্যই হয়তো কবীর সুমন গেয়েছিলেন, ‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই, ডাইনে ও বায়ে আমি তোমাকে চাই…।’
তবে কি জানেন ‘চা দিবস’ বলেও একটি দিন রয়েছে। ২১শে মে, অর্থাৎ আজ চা প্রেমীদের দিবস। তাই চাইলে আজকের দিনটি উদযাপনে একত্রিত হতে পারেন, কিংবা মেতে উঠতে পারেন চা আড্ডায়। তবে এই দিনটি উদযাপনের পেছনেও কিন্তু রয়েছে কারণ।
আপনি জেনে অবাক হবেন, চা বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষের সবচেয়ে প্রিয় পানীয়। চায়ের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, চা পানীয় হিসেবে পান শুরু হয় প্রথম চীনে। ন্যাশনাল টুডে’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে মানুষ ২৫ হাজার কাপ চা পান করেন। অর্থাৎ প্রতিদিন দুই বিলিয়ন কাপেরও বেশি চা পান করা হয়। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, চা উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ ১২তম। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলো হলো চীন, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, জাপান ও থাইল্যান্ড।
১৬০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের মানুষ এই সুস্বাদু পানীয়টির প্রেমে পড়তে শুরু করেন এবং এটি আধুনিক শ্রেণির জনপ্রিয় পানীয় হয়ে উঠতে শুরু করে। ব্রিটিশ ভারতে চায়ের উৎপাদন প্রবর্তিত হয়। শুধু তাই নয় তখন বিশ্বব্যাপী এটি একটি শিল্প হয়ে ওঠে।
২০০৫ সালে চা উৎপাদনকারী দেশগুলো এক হয়ে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন করে। এই দেশগুলো হলো- শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া ও উগান্ডা। পরে ২০১৯ সালে ২১ মে বিশ্ব চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ চা দিবসকে হ্যাঁ বলে। ২০২০ সালের ২১ মে জাতিসংঘ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব চা দিবস পালন করে।














